সৌর ঝড় কত বছর অন্তর হয়

    সৌর ঝড় কত বছর অন্তর হয়
    সৌর ঝড় ১ ছবি।


    সৌরঝড় কী?

    যখন সূর্য সৌর শিখা এবং করোনাল ভর নির্গমনের আকারে পদার্থ বা শক্তি নির্গত করে তখন বৈদ্যুতিক চার্জ এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের একটি প্রবাহ মহাকাশে বাইরের দিকে নিক্ষেপিত হয়। এই মহাজাগতিক ঘটনাকেই বিজ্ঞানীরা সৌরঝড় আখ্যা দিয়ে থাকেন। 

    সোলার স্ট্রিম প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩ মিলিয়ন মাইল বেগে ভ্রমণ করতে পারে। সৌভাগ্যবশত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এই মহাজাগতিক ঘটনা শোষণ করে নিরে সূক্ষ্ম। তা খুব কম শক্তি মাটি পর্যন্ত পৌঁছয়। তাই সৌরঝড়ের শক্তি বেশি হলে তা পৃথিবীতে ধ্বংসলীলা চালাতে পারে।

    সৌর ঝড় কত বছর পর পর হয়

    নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের একজন সহযোগী প্রধান জ্যোতির্বিদ্যা অ্যালেক্সা হ্যালফোর্ড বলেছেন যে, প্রত্যেক ১১ বছর অন্তর পৃথিবী সূর্যের সবথেকে কাছে চলে যায়। সেই সময়েই এই ঘটনা ঘটতে পারে। এই সময় আরও একটি সৌর শিখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং পদ্ধতিগুলি কতটা সফলভাবে সৌর কণার ঢেউ প্রতিরোধ করতে পারে তা মূল্যায়ন করার একটি সুযোগ পাওয়া যাবে।

     সৌর ঝড় সম্পকে জানা অজানা

    সূর্য যখন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণের সাথে অগ্ন্যুৎপাত করে তখন এটি একটি সৌর বিস্তার হিসাবে পরিচিত হয়। এই বিস্ফোরণগুলি সাধারণত কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। তবে এগুলি আরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। তবে প্রতিটি সোলার ফ্লেয়ার বা করোনাল ভর ইজেকশন পৃথিবীতে প্রভাব ফেলবে না। সৌর বিস্ফোরণের আকার এবং দিক পৃথিবীর উপর এর প্রভাবের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এর মানে হল যে একটি সৌর শিখা যা পৃথিবী থেকে সূর্যের অন্য দিকে অগ্ন্যুৎপাত করে তা আমাদের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না কারণ এটি তার দিকে পরিচালিত হয়নি।

    দুর্ভাগ্যবশত সবকিছু ভুল হয়ে গেলে ফলাফল বিধ্বংসী হতে পারে। যদি একটি সৌর শিখার কারণে উচ্চ শক্তির করোনাল ভর ইজেকশন হয়। এবং সেখান থেকে কণাগুলি সরাসরি পৃথিবীর দিকে আঘাত করে এবং যদি নির্গত পদার্থের চৌম্বক ক্ষেত্র এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অ্যান্টি লাইনড হয়। তাহলে আমাদের গ্রহের বড়সড় ক্ষতি হতে পারে। টেলিযোগাযোগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিষেবা থমকে যেতে পারে।

    একইভাবে ১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে বৃহৎ সৌর ঝড় পৃথিবীতে আঘাত করেছিল যা আমাদের গ্রহের মারাত্মক ক্ষতি করেছিল। ঝড়টি নয়ঘণ্টা ধরে কুইবেক এবং নিউ ইংল্যান্ডের কিছু অংশের পাওয়ার স্টেশনগুলিকে ধ্বংস করেছিল। গ্রিডে বিদ্যুতের অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে পাওয়ার ট্রান্সফরমারগুলি গলে গেছে।সূর্য একটি নতুন সৌর চক্রে প্রবেশ করেছে। এই সময় সূর্য মহাকাশে অনেক পদার্থ নিক্ষেপ করতে থাকে যা পৃথিবীবাসীর জন্য পরিবেশকে নরকের মতো করে তোলে। আশঙ্কা করা হচ্ছে শক্তিশালী সৌরঝড় আছড়ে পড়তে পারে পৃথিবীতে।

    আরও পড়ুন: ২০২২ সালের সূর্যগ্রহণ কবে? কয়টি ও কি কি কাজ করতে হবে?

    সৌর ঝড় কত বছর অন্তর হয় ১
    সৌর ঝড় ২ ছবি।

     

    সৌর ঝড় কখন কখন হয়

    এই সৌরঝড়গুলি বেশিরভাগই খুব শক্তিশালী হয়। তবে এই ঝড় সব সময় হয় না। যথেষ্ট শক্তিশালী একটি সৌরঝড় একটি গোটা সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সৌরঝড়গুলিকে ক্যারিংটন ইভেন্ট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ১৮৫৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রিচার্ড ক্যারিংটন ও রিচার্ড হজসন সূর্যের উপরে একটি বড় ও অনিয়মিত সান্সপট দেখতে পেয়েছিলেন যখন তাঁর উপর দিয়ে চলে গিয়েছিল একটি প্রচণ্ড শিখা। ক্যারিংটন এই শিখাটিকে তীব্র উজ্জ্বল এবং মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে সূর্যের স্থানের বাম থেকে ডানদিকে সরে যাওয়া হিসাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। 

    আরও পড়ুন: সৌরপৃষ্ঠে বিরাট সাপ! ৩৮০,০০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা বেগে চলাফেরা করছে

    এর পরেই তা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। বিশাল এই সৌরঝড়ের কয়েক দিনের মধ্যেই মেরু প্রদেশে দেখা গিয়েছিল। সেই সময়েও সৌরঝড়ের কারণে বিদ্যুতের তারে আগুন ধরে গিয়েছিল। এটাই ছিল সাম্প্রতিক অতীতে পৃথিবীতে হানা দেওয়া সবথেকে শক্তিশালী সৌরঝড়।এর পরে সূর্যে ঝড় তৈরি বন্ধ হয়েছে এমন নয়। কিন্তু পৃথিবীবাসীরা ভাগ্যবান যে এর মধ্যে এমন কোন শক্তিশালী সৌরঝড় সৃষ্টি হয়নি যা মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে নতুন সৌরচক্রের শুরুতেই খুব শক্তিশালী সৌরঝড় পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে।

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    নবীনতর পূর্বতন

    যোগাযোগ ফর্ম